BeautyLIFESTYLE

গ্লাস স্কিন নয়, সৌন্দর্যের দুনিয়ায় নতুন ট্রেন্ড ‘ক্লাউড স্কিন’

নাম থেকেই বোঝা যায়, এই ট্রেন্ডের অনুপ্রেরণা এসেছে মেঘের নরম, মখমলি এবং হালকা আবছা সৌন্দর্য থেকে। ত্বক থাকবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, তবে অতিরিক্ত চকচকে নয়; থাকবে একটি সফট-ম্যাট, ব্লারড ফিনিশ, যা দেখতে একই সঙ্গে স্বাভাবিক ও পরিশীলিত।

কী এই ক্লাউড স্কিন?

ক্লাউড স্কিন এমন একটি মেকআপ ও স্কিনকেয়ার ফিনিশ, যেখানে ত্বককে অতিরিক্ত ডিউই বা ম্যাট না রেখে মাঝামাঝি একটি ভারসাম্য তৈরি করা হয়। এটি এমন একটি লুক, যেখানে ত্বককে মনে হয় ভেতর থেকে সুস্থ ও সতেজ, আর বাইরে থেকে মসৃণ ও নরম।

এই লুকে ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচার পুরোপুরি ঢেকে ফেলা হয় না। বরং ছোটখাটো অসমতা বা পোরসকে সফট-ফোকাস ইফেক্টের মাধ্যমে আরও পরিশীলিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।

কেন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে?

সোশ্যাল মিডিয়া ও বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে এখন “Less is More” ধারণাটি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। মানুষ এমন মেকআপ চাইছে যা বাস্তব জীবনে যেমন সুন্দর দেখায়, তেমনি ক্যামেরাতেও স্বাভাবিক লাগে।

Cloud Skin ঠিক সেই চাহিদারই প্রতিফলন।

  • অতিরিক্ত তেলতেলে দেখায় না।
  • দীর্ঘ সময় সতেজ লাগে।
  • হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরাতেও সুন্দর দেখায়।
  • গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি উপযোগী।

বাংলাদেশের আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করলে, এটি Glass Skin-এর তুলনায় অনেকের জন্য বাস্তবসম্মত একটি বিকল্প হতে পারে।

কীভাবে পাবেন ক্লাউড স্কিন লুক?

১. হালকা হাইড্রেশন

ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে একটি হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। লক্ষ্য থাকবে ত্বককে আর্দ্র রাখা, কিন্তু অতিরিক্ত ভারী না করা।

২. ব্লারিং প্রাইমার

পোরসকে মসৃণ দেখাতে একটি ব্লারিং বা সফট-ফোকাস প্রাইমার ব্যবহার করতে পারেন।

৩. লাইটওয়েট বেস

হাই-কভারেজ ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে স্কিন টিন্ট, লাইটওয়েট ফাউন্ডেশন বা কুশন ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।

৪. প্রয়োজনমতো কনসিলার

শুধু প্রয়োজনীয় জায়গায় কনসিলার ব্যবহার করুন। পুরো মুখ ঢেকে ফেলার প্রয়োজন নেই।

৫. সফট সেটিং

টি-জোনে অল্প ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার ব্যবহার করুন, যাতে অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে থাকে কিন্তু মুখ একেবারে ফ্ল্যাট না দেখায়।

৬. সাটিন ফিনিশ

হাইলাইটারের পরিবর্তে এমন প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন যা ত্বকে নরম, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল আভা তৈরি করে।

কার জন্য সবচেয়ে উপযোগী?

Cloud Skin প্রায় সব ধরনের ত্বকের জন্য মানানসই।

  • তৈলাক্ত ত্বক: অতিরিক্ত শাইন কমিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে।
  • কম্বিনেশন স্কিন: ডিউই ও ম্যাটের সুন্দর সমন্বয় তৈরি করে।
  • স্বাভাবিক ত্বক: সবচেয়ে সহজে এই লুক অর্জন করা যায়।
  • শুষ্ক ত্বক: ভালোভাবে হাইড্রেশন নিশ্চিত করলে এই লুক দারুণ মানিয়ে যায়।

গ্লাস স্কিন বনাম ক্লাউড স্কিন

Glass Skin Cloud Skin
অত্যন্ত ডিউই ও উজ্জ্বল সফট, ব্লারড ও সাটিন ফিনিশ
কাঁচের মতো আলো প্রতিফলিত করে মেঘের মতো কোমল টেক্সচার
বেশি স্কিনকেয়ার-নির্ভর স্কিনকেয়ার ও মেকআপের ভারসাম্য
শুষ্ক ত্বকে বেশি জনপ্রিয় প্রায় সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী

২০২৬ সালের বিউটি ট্রেন্ড

বিশ্বজুড়ে বিউটি বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন সৌন্দর্যের মূলমন্ত্র হলো “Healthy Skin Over Heavy Makeup.” অর্থাৎ, ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে লুকিয়ে না রেখে আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করাই এখন সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড।Cloud Skin সেই পরিবর্তনেরই প্রতীক যেখানে নিখুঁত হওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল ত্বক।

Glass Skin আমাদের শিখিয়েছিল উজ্জ্বল ত্বকের সৌন্দর্য। আর Cloud Skin মনে করিয়ে দিচ্ছে, সৌন্দর্য মানেই সবসময় ঝলমলে হওয়া নয়। কখনও কখনও একটি নরম, মসৃণ ও স্বাভাবিক উপস্থিতিই সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। যদি আপনি এমন একটি বিউটি লুক খুঁজে থাকেন, যা একই সঙ্গে আধুনিক, ব্যবহারিক এবং সারাদিন আরামদায়ক তাহলে Cloud Skin হতে পারে ২০২৬ সালের জন্য আপনার পরবর্তী বিউটি স্টেটমেন্ট।

লেখাঃ GLAMARTS Beauty Desk

ছবিঃ এআই

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *