রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাসিমা খান। অভিনেত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নূরজাহান বেগম গণমাধ্যমকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন এই অভিনেত্রী। সপ্তাহখানেক আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল তাঁকে। শেষ পর্যন্ত আর সুস্থ হয়ে ফেরা হলো না তাঁর।
নাসিমা খানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকে। অভিনেতা ওমর সানী প্রয়াত এই শিল্পীকে স্মরণ করে জানান, তাঁর সঙ্গে অভিনয় করার সৌভাগ্য হয়েছিল। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও উচ্চশিক্ষিত মানুষ হিসেবে নাসিমা খানকে মনে রেখেছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এই অভিনেতা।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমানও নাসিমা খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নাসিমা খান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সম্মানিত সদস্য ছিলেন।
ছেলের অপেক্ষায় হিমঘরে থাকবে মরদেহ
নাসিমা খানের পারিবারিক জীবনেও ছিল নানা উদ্বেগের অধ্যায়। তাঁর বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গত ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ছেলের সন্ধান পেতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু তাঁর খোঁজ আর পাননি।

সনি রহমান জানিয়েছেন, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত তাঁর মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। ছেলে দেশে ফিরলে শেষকৃত্যের আয়োজন করা হবে।
১৯৫৯ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক
১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্ম নাসিমা খানের। তাঁর পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। পারিবারিক পরিবেশেই ছোটবেলা থেকে সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। নাচ শেখার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠেন নাসিমা।

অভিনেতা ও নির্মাতা খান আতাউর রহমানের পরিবারের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রেই চলচ্চিত্রে আসার সুযোগ পান তিনি।

১৯৫৯ সালে এ জে কারদারের পরিচালনায় উর্দু চলচ্চিত্র ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে নাসিমা খানের। ষাটের দশকে ঢাকার চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বাংলা ও উর্দু, দুই ভাষার সিনেমাতেই ছিল তাঁর সাবলীল উপস্থিতি।

তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’, ‘তানহা’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝান’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’ ও ‘গৌরী’।
স্বাধীনতার পর একসময় চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে যান নাসিমা খান। পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনার মাধ্যমে আবারও দর্শকের সামনে আসেন। এরপর নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ফেরেন শিল্পজগতে।
তাঁর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সাক্ষীকে হারাল দেশের বিনোদন অঙ্গন। পর্দায় রেখে যাওয়া কাজের মধ্য দিয়েই দর্শকের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।










