‘জেলই আপনার যোগ্য জায়গা’, রাজপালকে আদালত

UPDATE

মামলাটি মূলত ২০১০ সালে ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমা নির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণকে কেন্দ্র করে। দিল্লির মুরালি প্রজেক্ট নামে একটি সংস্থার কাছ থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন রাজপাল। সিনেমাটি বক্স অফিসে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য না পাওয়ায় সেই অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। পরে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি গড়ায় আদালতে।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আদালত জানায়, রাজপাল আদালতের রেজিস্ট্রিতে ৫ কোটি রুপি জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই অর্থ জমা পড়েনি।

রাজপালের পক্ষ থেকে শুনানিতে ৫০ লাখ রুপির একটি ডিমান্ড ড্রাফট জমা দেওয়া হয়। অভিনেতার আইনজীবীরা জানান, সেটি ব্যাংকে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে ড্রাফটটির সত্যতা নিয়েও আদালত সংশয় প্রকাশ করে।

‘জেলই আপনার যোগ্য জায়গা’

অর্থ পরিশোধে বারবার ব্যর্থ হওয়ায় রাজপালের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। শুনানিতে তিনি মামলাকারীদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে অভিনেতার আচরণ নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন।

বিচারপতির বক্তব্যের সারকথা ছিল, মামলাকারীরা হয়তো রাজপালের তুলনায় আর্থিকভাবে সচ্ছল, কিন্তু দীর্ঘদিন অর্থ আটকে থাকায় তারাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে রাজপালের আচরণকে আদালত ঔদ্ধত্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে বলেও মন্তব্য করা হয়। একপর্যায়ে বিচারপতি বলেন, ‘জেলই আপনার যোগ্য জায়গা।’

এর আগে সেপ্টেম্বরের শুনানিতেও রাজপালকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সে সময় আদালত বলেছিল, তিনি ‘নাটক করতে ওস্তাদ’, কিন্তু আদালত নাটকের জায়গা নয়। আদালতের নির্দেশ আগেও মানা হয়নি বলেও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল।

আগেও কারাদণ্ড হয়েছিল

এই মামলায় রাজপালের আইনি জটিলতা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সালের এপ্রিলে চেক বাউন্স মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাজপাল ও তাঁর স্ত্রী দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করলে পরবর্তী সময়ে সাজা স্থগিত করা হয়।

এরপর ২০২৪ সালে ফের দোষী সাব্যস্ত হন অভিনেতা। মামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করে বকেয়া অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুযোগও দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে দুই দফায় মোট ২ কোটি ২৫ লাখ রুপি পরিশোধ করেন রাজপাল। কিন্তু বাকি অর্থ আর পরিশোধ করতে পারেননি।

বকেয়া অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার জেরে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশে আত্মসমর্পণও করেছিলেন তিনি। সে সময় জেলে যাওয়ার আগে আক্ষেপ করে রাজপাল বলেছিলেন, তাঁর এমন কোনো বন্ধু নেই, যে বকেয়া অর্থ পরিশোধে তাকে সাহায্য করতে পারেন।

এরপর জুলাইয়ে দিল্লি হাই কোর্ট তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয় এবং ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান অভিনেতা।

সেপ্টেম্বরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট তাকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য নতুন সময়সীমা দেয়। ৫ অক্টোবরের মধ্যে ৫ কোটি রুপি জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই অর্থও পরিশোধ করতে পারেননি রাজপাল।

ফলে দীর্ঘদিনের এই আর্থিক ও আইনি জটিলতা থেকে আপাতত মুক্তি মিলছে না ‘ছোটে পণ্ডিত’খ্যাত এই অভিনেতার। বরং আদালতের সর্বশেষ কড়া মন্তব্যে তাঁর কারাদণ্ডের আশঙ্কাই আবার সামনে এসেছে।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *