‘জ্বীনের বাচ্চা’র পর ইমরানের ‘জাদুকর’

FilmsUPDATE

চলতি বছরের শুরুতে ‘জ্বীনের বাচ্চা’ দিয়ে নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন ইমরান। সেটি ছিল স্যোশাল হরর ঘরানার গল্প। এবার দ্বিতীয় নির্মাণে আরও এক ধাপ এগিয়ে সাইকোলজিক্যাল হরর নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি। নতুন এই ওয়েব কনটেন্টের নাম ‘জাদুকর’। ইমরানের ভাষ্য, অভিনয় ক্যারিয়ারে সব সময় নিজের পছন্দের গল্পে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায় না। সেই জায়গা থেকেই নির্মাতা হিসেবে নিজের ভাবনা ও পছন্দের গল্পগুলো দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চান তিনি। ‘জাদুকর’-এর গল্পটিও তাঁর কাছে নতুন নয়। প্রথম পরিচালনার আগেই গল্পটি নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। নানা কারণে তখন এটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে মনে থাকা সেই গল্পই এবার পর্দায় আনছেন তিনি।

‘জাদুকর’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে গ্রামবাংলার প্রচলিত এক জাদুকরকে ঘিরে। তবে এটি নিছক জাদু দেখানোর গল্প নয়; বরং একজন সাধারণ মানুষের জাদুকর হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে তার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও জীবনের নানা টানাপোড়েন তুলে ধরা হয়েছে। ইমরানের মতে, গল্পটির কেন্দ্রে রয়েছে ভালোবাসার শক্তি দিন শেষে যা মানুষকে ভাবতে শেখায়, ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় জাদু।নতুন এই কাজের গল্প বলার ধরনেও ইমরানের আগের নির্মাণের সঙ্গে পার্থক্য থাকছে। ‘জ্বীনের বাচ্চা’ যেখানে স্যোশাল হরর, সেখানে ‘জাদুকর’ সাইকোলজিক্যাল হরর। গল্পের অনুপ্রেরণার ক্ষেত্রে ‘নাউ ইউ সি মি’ ও ‘প্রেস্টিজ’-এর মতো হলিউডের সিনেমার প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। পরিচালনার পাশাপাশি প্রযোজনাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ইমরান। তাঁর মতে, একজন নির্মাতাকে দেশের বাস্তবতায় নানা দায়িত্ব সামলাতে হয়। তবে নিজের ভাবনাকে পর্দায় ঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলাই পরিচালনার সবচেয়ে কঠিন জায়গা। সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও কাজের বড় কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি বলে জানান তিনি।

 

ভবিষ্যতে নির্মাতা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের গল্প বলতে চান ইমরান। তবে হরর ঘরানার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। কারণ, এই ঘরানার গল্পে বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক নানা বিষয়ও তুলে ধরা যায়। একই সঙ্গে গল্পকে একাধিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। তাঁর কাছে হরর অনেক সময় রূপকথার মতোও হয়ে উঠতে পারে।

অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও নির্মাতা হিসেবে ইমরানকে সহযোগিতা করছে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আশফাক নিপুন, তানিম নূর ও মেজবাউর রহমান সুমনের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা পরিচালনায় নিজের পথচলাকে সহজ করেছে বলে মনে করেন ইমরান। দেশি নির্মাতাদের মধ্যে মেজবাউর রহমান সুমনের কাজ তাঁর বিশেষ পছন্দ। আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের মধ্যে তাঁর পছন্দ কোয়েন্টিন টারান্টিনো।

‘জাদুকর’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শরীফ সিরাজ। চরিত্রটি বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তাঁকে একজন পেশাদার জাদুকরের কাছ থেকে প্রশিক্ষণও নিতে হয়েছে। এসকে মিঠু নামের একজন জাদুকর নিয়মিত এসে তাঁকে জাদুর বিভিন্ন কৌশল শিখিয়েছেন।

শরীফ সিরাজের জন্যও চরিত্রটি ছিল চ্যালেঞ্জিং। শুরুতে তিনি চরিত্রটির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন না। পরে ইমরানের উৎসাহ ও সহযোগিতায় প্রস্তুতি নেন। কয়েক দফা রিহার্সালের পর প্রায় দুই মাস আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় ‘জাদুকর’-এর শুটিং সম্পন্ন হয়।

রাজীব হোসেনের কাহিনি ও চিত্রনাট্যে নির্মিত ‘জাদুকর’-এ শরীফ সিরাজ ছাড়াও অভিনয় করেছেন শাওয়ানা, আনোয়ার হক, রশিদ হারুনসহ আরও অনেকে। ইমরান জানিয়েছেন, শিগগিরই একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের সামনে আসবে তাঁর নতুন এই নির্মাণ।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *