শনিবার গভীর রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজ এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবাসন প্রকল্পের জমির মালিকের সঙ্গে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার পেছনের কারণ নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা বলা হয়েছে। ফলে হামলার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তসাপেক্ষ।সালমান জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। তাঁর ধারণা, আবাসন প্রকল্পের মালিকপক্ষের সঙ্গে কোনো বিরোধের জেরে হামলাকারীরা সেখানে তাণ্ডব চালায় এবং এর মধ্যে তাঁর স্টুডিওও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীরা স্টুডিওটি তাঁর বলে জানত কি না, সেটিও তিনি নিশ্চিত নন।
হামলার পর স্টুডিওর ভেতরের চিত্র ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ক্যামেরা, রেকর্ডিং সরঞ্জাম, আসবাবপত্র, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়েছে। কিছু জিনিস লুটের অভিযোগও রয়েছে। সালমানের ইউটিউবের সিলভার ও গোল্ড প্লে বাটনও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় স্টুডিওতে ছিলেন দুই কেয়ারটেকার। সালমানের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা অস্ত্র নিয়ে সেখানে প্রবেশ করলে তাঁরা আতঙ্কে একটি বাথরুমে আশ্রয় নেন। পরে সেখানেও গিয়ে তাঁদের ভয় দেখানো হয় এবং মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তবে হামলায় তাঁর কোনো কর্মী আহত হননি বলে জানিয়েছেন সালমান।
হামলার ব্যাপ্তিও ছিল বড়। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল সেখানে প্রবেশ করে। কেউ কেউ মুখে মাস্ক পরেছিলেন এবং তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন। তবে এসব তথ্য তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। সালমান জানান, তাঁর স্টুডিওতে প্রায় ২৯টি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। হামলার পর সেগুলোর বেশ কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পর দুইজনকে ছুরিসহ আটক করা হয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। কারণ স্টুডিওতে নিজেদের সরঞ্জামের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লায়েন্টের কাজের ফুটেজ ও প্রযোজনাসংশ্লিষ্ট নানা জিনিসপত্র রাখা ছিল। কতগুলো সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে কিংবা কতগুলো নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার হিসাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সালমান।
তবে অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়েও ঘটনাটিকে অন্যভাবে দেখছেন সালমান। তাঁর কাছে ‘ব্রাউনফিশ’ শুধু একটি স্টুডিও নয়, দীর্ঘদিনের সৃজনশীল কাজ ও স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত একটি উদ্যোগ। হামলার পর প্রকাশ করা ভিডিওতে তিনি জানান, এই ঘটনা তাঁর কাজ থামিয়ে দিতে পারবে না। বরং নতুন করে শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সালমানের ভাষ্যে, চাইলে তিনি আবার শুরু থেকে সবকিছু গড়ে নিতে পারবেন। কিন্তু তাঁর উদ্বেগ নিজের ক্ষতি নিয়ে নয়; এমন একটি ঘটনা অন্য কোনো উদ্যোক্তা বা সৃজনশীল মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে পারে এ বিষয়টিই তাঁকে বেশি ভাবাচ্ছে।
ঘটনার পর সালমান আরও জানান, তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন। এদিকে পুলিশ দুইজনকে আটক করার কথা নিশ্চিত করেছে। হামলায় কারা জড়িত এবং এর পেছনে প্রকৃত কারণ কী তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ সালমান করেছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্টুডিওর সামনে দাঁড়িয়েও অবশ্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাই জানিয়েছেন সালমান। তাঁর বার্তা স্টুডিও ভাঙা যেতে পারে, কিন্তু সৃজনশীল কাজের ইচ্ছাকে থামানো যাবে না।












