রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন বাঁধন।
হামলার পর ভেনিসে কারা তার পাশে ছিলেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাঁধন জানান, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক, ইতালি সরকার, বাংলাদেশের সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তিনি সহযোগিতা পেয়েছেন।
তবে নিজের সিনেমার টিমের আচরণে আক্ষেপ প্রকাশ করে বাঁধন বলেন, ‘কিন্তু আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন (বর্জন) করেছে।’ তার ভাষ্য, উৎসবের বাকি দিনগুলোতে টিমের সঙ্গে তাকে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন তিনি।
তবে সব সহশিল্পী যে তাকে এড়িয়ে গেছেন, তা নয়। বাঁধন জানান, তার সহশিল্পীদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন।
হামলার পর নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ইতালি সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ঘটনার রাতেই বাংলাদেশের সরকারি দপ্তর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতসহ দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগ থেকেও নিয়মিত সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক তাকে লিডোতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বলেও জানান বাঁধন।
দেশে ফিরে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন অভিনেত্রী। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা ভুলে দেশের মানুষ, বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা কখনো ভুলবেন না বলে জানান তিনি।
বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি এরই মধ্যে জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়েছে। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ঘটনাটিকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।












