সম্প্রতি ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামান্থা জানান, সন্তান নেওয়ার বিষয়টি তাঁদের পূর্বপরিকল্পনার অংশ ছিল না। বরং একটা সময় তিনি ও রাজ মনে করেছিলেন, সন্তান ছাড়াও দুজন মিলে পুরো জীবন সুখে কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব।
সেই ভাবনা থেকেই নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করছিলেন তাঁরা। কিন্তু এরপরই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। জানতে পারেন, তিনি গর্ভবতী। সামান্থার কাছে খবরটি ছিল আকস্মিক। তবে সেই বিস্ময়ের মধ্যেও নতুন অভিজ্ঞতাটিকে তিনি বিশেষ এক অনুভূতি হিসেবে দেখছেন।
অভিনেত্রী জানান, ‘মা ইন্তি বঙ্গারাম’ ছবির শুটিং চলাকালীন তাঁর গর্ভাবস্থার বিষয়টি জানা যায়। তখন শারীরিকভাবে ক্লান্তি ও বমি বমি ভাবের মতো সমস্যাও হচ্ছিল। তবু কাজ থামাননি তিনি। ছবির একটি গানের দৃশ্যে টানা নাচের শুটিং করতে হয়েছে সামান্থাকে। পাশাপাশি ছিল অ্যাকশন ও গাড়ি ধাওয়ার দৃশ্য। গর্ভাবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এসব দৃশ্যের শুটিংয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল বলেও জানান অভিনেত্রী। সন্তান ছেলে হবে, নাকি মেয়ে এ নিয়ে কোনো ধরনের প্রত্যাশা বা পার্থক্য করতে চান না সামান্থা। তার কাছে ছেলে-মেয়ে দুজনই সমান। ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে সন্তানকে বড় করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মাতৃত্বের পাশাপাশি নিজের অসুস্থতার অভিজ্ঞতাও সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। মায়োসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার সময় তাঁর জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সেই সময় নিজের পরিচয় এবং পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার মতো অনুভূতি হয়েছিল বলে জানান তিনি।

তবে সময়ের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। সামান্থার উপলব্ধি, জীবনের সব পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু কোনো পরিস্থিতির সঙ্গে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, সেটি অনেকটাই নিজের হাতে থাকে।
অসুস্থতার সেই কঠিন সময় থেকে সাহস, বিশ্বাস ও আশার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছেন বলেও জানান সামান্থা। এবার সেই অভিজ্ঞতাগুলো সঙ্গে নিয়েই জীবনের নতুন অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি অপেক্ষা করছেন মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার জন্য।












