নিজের প্রথম একক প্রামাণ্যচিত্র ‘অলওয়েজ লালিসা’-তে ক্যারিয়ারের শুরুর সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এই তারকা। কানাডার সংবাদমাধ্যম টরন্টো স্টারের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে লিসার বক্তব্য।
২০১১ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমান লিসা। সেখানে ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টে প্রশিক্ষণ শুরু করেন তিনি। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে লিসা জানান, নিজের মনের কথা প্রকাশ করার মতো আত্মবিশ্বাসও তখন তার ছিল না। লিসার ভাষায়, ‘আমি মুখ খুলতে বা নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে সাহস পেতাম না। প্রশিক্ষণকালেও ছিল কঠোর নিয়ম। প্রতি মাসে নিজের পারফরম্যান্সের ভিডিও তৈরি করে তা কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিতে হতো তাকে। সেই ভিডিও নিয়ে পাওয়া প্রতিক্রিয়া এবং সে সময়কার মানসিক চাপের কথা বলতে গিয়ে প্রামাণ্যচিত্রে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লিসা।

তবে ক্যারিয়ারের চাপের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়েও ছিল নানা বিধিনিষেধ। বিশেষ করে প্রেমের সম্পর্ককে ঘিরে কে-পপ তারকাদের ওপর থাকা সামাজিক ও পেশাগত চাপের কথা জানিয়েছেন তিনি। লিসা বলেন, ‘কে-পপ সংস্কৃতিতে আমরা প্রেম করতে পারি না।’

তরুণ বয়সে একাধিকবার প্রেমে পড়লেও সেসব সম্পর্ক প্রকাশ্যে আনতে পারেননি তিনি। কারণ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে এলে তা ব্ল্যাকপিংকের জনপ্রিয়তা কিংবা দলের ভাবমূর্তিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা কাজ করত তার মধ্যে। লিসার ব্যক্তিগত জীবনের সেই অভিজ্ঞতার ছাপ পাওয়া গেছে তার সংগীতেও। গত বছর প্রকাশিত তার প্রথম একক স্টুডিও অ্যালবাম ‘অল্টার ইগো’-তে ব্যক্তিগত জীবনের নানা গল্প উঠে এসেছে। অ্যালবামের ‘ড্রিম’ গানটি তার অতীতের একটি গোপন সম্পর্ক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি। গানটি প্রকাশের আগে সেই সাবেক প্রেমিকের অনুমতিও নিয়েছিলেন লিসা। তবে তিনি একটি শর্ত দিয়েছিলেন তার পরিচয় কোনোভাবেই ভক্তদের সামনে প্রকাশ করা যাবে না। লিসাও সেই শর্ত মেনে গানটি প্রকাশ করেন। এদিকে ২০২৩ সাল থেকে ফরাসি বিলাসপণ্য প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচের উত্তরসূরি ফ্রেদেরিক আর্নল্টের সঙ্গে লিসার সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছিল। সম্প্রতি তাদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবরও ছড়িয়েছে। এরপর থাই অভিনেতা ব্লু পংতিওয়াতের সঙ্গে লিসার প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
তারকাখ্যাতির আড়ালে ব্যক্তিজীবনে কতটা নিয়ন্ত্রণ ও চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, লিসার সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই বাস্তবতাই নতুন করে সামনে এসেছে।












