টম ক্রুজের সঙ্গে বিয়ে ও ক্যারিয়ার বিসর্জন নিয়ে মুখ খুললেন নিকোল কিডম্যান

FilmsInternationalUPDATE

অস্কারজয়ী অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান নিজের ব্যক্তিজীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বলেছেন। ব্রিটিশ ‘ভোগ’-এর সেপ্টেম্বর সংখ্যায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ফিরে তাকিয়েছেন টম ক্রুজের সঙ্গে তার বহুল আলোচিত বিয়ে, ক্যারিয়ার নিয়ে সে সময়কার সিদ্ধান্ত এবং সম্প্রতি কিথ আরবানের সঙ্গে দীর্ঘ দাম্পত্যের ইতি টানার অভিজ্ঞতায়।

১৯৯০ সালে ‘ডেজ অব থান্ডার’ ছবিতে কাজ করতে গিয়ে টম ক্রুজের সঙ্গে পরিচয় হয় কিডম্যানের। পর্দার রসায়ন দ্রুতই বাস্তব জীবনের সম্পর্কে রূপ নেয়। একই বছর বড়দিনের আগের রাতে তারা বিয়ে করেন। তখন কিডম্যানের বয়স মাত্র ২৩। এত অল্প বয়সে বিয়ে এবং হলিউডের অন্যতম বড় তারকার সঙ্গে সংসার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকেই তাকে সতর্ক করেছিলেন। বিশেষ করে তার নিজের ক্যারিয়ারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছিল।

তবে প্রেমের কাছে সেসব সতর্কবার্তা গুরুত্ব পায়নি কিডম্যানের কাছে। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্মরণ করেছেন, তখন তিনি ক্রুজের প্রেমে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে ক্যারিয়ারের ঝুঁকি নিয়ে খুব বেশি ভাবেননি। তার ভাষ্যে, সেই সময় তাদের বিয়ে ছিল খুবই স্বাভাবিক একটি সিদ্ধান্ত কারণ তারা একে অপরের প্রেমে গভীরভাবে ডুবে ছিলেন।

ক্রুজ-কিডম্যানের দাম্পত্য স্থায়ী হয়েছিল প্রায় ১১ বছর। এই সময়ে তারা ‘ফার অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ ও ‘আইজ ওয়াইড শাট’-এর মতো সিনেমাতেও একসঙ্গে অভিনয় করেন। তারা দত্তক নেন দুই সন্তান, ইসাবেলা ও কনর। ২০০১ সালে তাদের বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।

তবে বিচ্ছেদের পর কিডম্যানের ক্যারিয়ার থেমে যায়নি, বরং তার অভিনয়জীবনে আসে নতুন এক অধ্যায়। ২০০২ সালে ‘দ্য আওয়ার্স’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ‘মুলাঁ রুজ!’, ‘বিগ লিটল লাইস’, ‘দ্য আনডুইং’, ‘বিইং দ্য রিকার্ডোস’সহ নানা কাজের মাধ্যমে নিজেকে হলিউডের অন্যতম বহুমাত্রিক অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ব্রিটিশ ‘ভোগ’-ও তার চার দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের বিষয়টি তুলে ধরেছে।

টম ক্রুজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পাঁচ বছর পর ২০০৬ সালে সংগীতশিল্পী কিথ আরবানকে বিয়ে করেন কিডম্যান। এই সংসারে তাদের দুই মেয়ে সানডে রোজ ও ফেইথ মার্গারেট। প্রায় ১৯ বছর একসঙ্গে থাকার পর ২০২৫ সালে তাদের বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।

দ্বিতীয় বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা যে তার জন্য সহজ ছিল না, সেটিও স্বীকার করেছেন কিডম্যান। বরং দীর্ঘ দাম্পত্য ভেঙে যাওয়ার পর নিজেকে অনেকটা অনিশ্চিত ও অরক্ষিত মনে হয়েছিল তার। তবে এই অভিজ্ঞতা তাকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার বদলে জীবনের অনিশ্চয়তাকে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছে।

দুটি বহুল আলোচিত বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা তাকে ভালোবাসা কিংবা সম্পর্কের প্রতি নিরাশ করেনি। বরং কিডম্যানের কথায়, জীবন সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না। কখনো কখনো অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই নতুন পথ তৈরি হয়। সেই বিশ্বাস নিয়েই নিজের জীবন ও ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েনের মধ্যেও কাজ থেকে দূরে সরে যাননি কিডম্যান। বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার অভিনয়ের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালের ‘বেবিগার্ল’-এর মতো সাহসী চরিত্র থেকে শুরু করে নতুন সিনেমা ও প্রযোজনার কাজ, সব মিলিয়ে এখনো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সক্রিয় সময়গুলোর একটি পার করছেন তিনি।

টম ক্রুজকে বিয়ে করার সময় ক্যারিয়ার বিসর্জনের আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত তার অভিনয়জীবনের সমাপ্তি ডেকে আনেনি। বরং ব্যক্তিগত জীবনের উত্থান-পতন পেরিয়ে নিকোল কিডম্যান আজ নিজের প্রজন্মের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী অভিনেত্রী, যার জীবনের গল্পে প্রেম, বিচ্ছেদ, মাতৃত্ব, অনিশ্চয়তা এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অধ্যায় পাশাপাশি লেখা।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *